গভীর রাতে আজান প্রসঙ্গ : আমানত উল্লাহ সাকিব

১০.৪০টা (রাত) হঠাৎ বাড়ীর উত্তর পাশের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি কানে বেজে উঠলো।এত রাতে আজান কেন?একটু মনযোগ দিয়ে শুনতেই দেখি আরো দুই তিনটা মসজিদের মাইকে আজান হচ্ছে।একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম।সাথে ভয় ও কাজ করছে।পরক্ষনেই দেখি মোবাইল বেজে উঠলো।মোবাইলের আওয়াজ শুনে ভয়ে ভয়ে ফোনটা রিসিভ করতেই বলে, আমাদের এখানে সব মসজিদে আজান হচ্ছে তোমাদের এলাকার কি অবস্থা?আমি বললাম আমাদের এলাকায় ও আজান হচ্ছে,কিন্তু কেন জানি না!আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আজান কেন হচ্ছে?ও আমাকে যা বলল তা ছিল-কোন এক বাচ্চা সপ্ন দেখেছে ১০ টা ১১ মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে একসাথে আজান দিয়ে ৪ রাকাআত নফল নামাজ পড়ে রং চা খেলে চলমান করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে।এই কথা বলেই ফোন কেটে দিতে আমার বড় আপার ফোন আসলো। উনি আমাকে বলে কি করিস?আমি বললাম বসেই আছি।উনিও আমাকে পূর্বের জনের মত আজানের কথা জিজ্ঞেস করলো, আর বললো তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হয়ে যা।রাত ১২ টায় নাকি ভুমিকম্প হবে।আর পারলে বাড়ীর সামনে দাড়িয়ে একটু আজান দে।(১২ টার পর উনি আবার ফোন করে বলল মনখালীতে (উখিয়া) একটা বিল্ডিং নাকি ভেঙ্গে গেছে।টেকনাফের দিকে নাকি আরো কিছু বিল্ডিং ভেঙ্গে যাচ্ছে)

আমি একটু বেশি ভয় পেয়ে গেলাম।সবাইকে ঘুম থেকে ডাকতে ডাকতে বিভিন্ন জনের ফোন আসতেছে।সবাইকে নিয়ে দরজায় বসে আরেকটা ফোন রিসিভ করলাম।তিনি ও একি কথা বলার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম এসব কে বলেছে?তিনি আমাকে উত্তর দিলেন ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে নাকি করোনা ভাইরাস থেকে বাচাঁতে একি সময়ে সমস্ত বাংলাদেশে আজানের নির্দেশনা দিয়েছে।আমি একটু স্থির হওয়ার চেষ্টা করলাম।আসলে ঘটনাটা কি?ফোন করলাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সহকারী পরিচালক কে।উনাকে জিজ্ঞেস করার পর উত্তর দিল তোমার পূর্বে আমাকে অনেকেই ফোন করেছে এই বিষয়ে জানতে!!উনার মতে এই রকম কোন নির্দেশনা ইসলামি ফাউন্ডেশন দেয়নি।একটু হঠকা লাগলো।!!ফোন করলাম বাংলাদেশের একজন নাম করা আলেম কে।উনাকে জিজ্ঞেস করলাম দেশের সব জায়গায় আজান হচ্ছে ব্যাপার কি?এই ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?উনি বললো ইসলামে আজান দেয়া যায় পাচঁ ওয়াক্ত নামাজের জন্য।আর কেউ যদি রাতের অন্ধকারে ভয় পায়,সন্তান হলে তখন আজান দেওয়ার বিধান আছে।আমার পুনরায় প্রশ্ন ছিল-কেউ সপ্ন দেখলে বা মহামারিতে আজান?উনি বললো কোন সাধারণ ব্যক্তির সপ্নে বা মহামারিতে আজানের বিধান নেই।কারন এর পূর্বে ও অনেক বার মহামারি হয়েছে এবং মহামারিতে সাহাবীর মৃত্যুর হয়েছে।কিন্তু আজানের রেওয়াজ ধর্মীয় ভাবে পাওয়া যায়না।তখন আমার মনে প্রশ্ন আসলো!!কি হচ্ছে এসব?

যে দেশের মানুষ আজ চরম ভাবে আতংকিত করোনা ভাইরাস নিয়ে।যে দেশের মানুষকে করোনার কবল থেকে বাচাঁতে সমগ্র বাংলাদেশ লকডাউনের পথে।সরকার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করছে।সেখানে মধ্যে রাতের অন্ধকারে আজান আর ভুমিকম্পের কথা বলে মানুষকে ঘরের বাহির করার উদ্দেশ্য কি??

আমার কিছুটা বোধগম্য হলো সাঈদিকে (আল্লামা দেলোয়ার হুসাইন)চাঁদে দেখার কথা।যেটাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫৬ জন মানুষের প্রান হানি হয়ে ছিল।আমরা কি আবার সেই পথেই হাঠছি??

আমাদের এই চরম ক্লান্তিময় সময়ে মানুষকে ঘরের বাহির করে সমগ্র দেশকে বিপদে ফেলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আদায়ের পায়তারা করছে কি কেউ!হতে ও পারে!কারন এর আগে ও আমরা বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইমানি শক্তিকে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে কাজে লাগাতে দেখেছি।

তাই আপনার, আমার,আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।কেউ যেন নতুন করে সুযোগ নিয়ে আমাদের দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে না পারে।

মনে রাখতে হবে এই দেশ আমার,আপনার,১৬ কোটি মানুষের।কিছু মানুষের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আমরা ১৬ কোটি মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারিনা।

ঘরে থাকুন,সতর্ক থাকুন। গুজবে কান দিবেন না। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।

লেখক : আমানত উল্লাহ সাকিব, প্রভাষক, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।