শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইতিহাসের বরপুত্র 

আখতারুল আলমঃ

৩০ শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ৷ এ দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের ইশারায় আকস্মিক হামলায় নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করা হয় ৷ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্লান্তিলগ্নে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে তাঁর আগমন ৷ তাঁর প্রায় পাঁচ বছরের ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান ৷ স্বার্থন্বেষী রাজনৈতিক
প্রতিপক্ষরা হয়ত তাঁর অবদান ও কৃতিত্ব স্বীকার করবেন না ৷ কিন্তু নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে যে কেউ তাঁর অবদান ও কৃতিত্ব অনুমান করতে পারবেন ৷ প্রথমত তিনি সামরিক বাহিনী থেকে আসা সামরিক অফিসার হিসাবে এটাই স্বাভাবিক ও সহজ ছিল যে তৎকালীন একদলীয় সরকার ব্যবস্থা রেখে দেশের একচ্ছত্র ক্ষমতার দণ্ডমুণ্ডের মালিক হবেন ৷ কিন্তু তিনি তা না করে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেন যাকে বলা যায় বাংলাদেশকে একপ্রকার নতুনভাবে স্বাধীন করা এবং তিনি মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেন ৷ অন্তত এই একটি ব্যাপারে তিনি ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের অধিকারী হয়ে থাকবেন ৷ যা দলমত নির্বিশেষে সকলে মেনে নিতে বাধ্য ৷ এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ তা মানতে বাধ্য ৷ কেউ তা অস্বীকার করলে তা একান্তই স্বার্থপরতা ও দলীয় দৃষ্টির পক্ষপাত হিসাবেই বিবেচিত হবে ৷ দ্বিতীয়ত তিনি ছিলেন দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অনেক উর্দ্ধে ৷ যা সর্বজন স্বীকৃত ৷ তাঁর ক্ষমতাকালীন সময়ে তাঁর কোনো আত্মীয়স্বজন ক্ষমতার অপব্যবহার বা সুবিধাদি আদায়ের সুযোগ পাননি ৷ ততীয়ত বিচার ব্যবস্থাকে প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেন ৷ যা জাতি কখনো ভুলতে পারে না ৷ চতুর্থত সংবাদপত্র থেকে সকল প্রকার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে বাকশাল আমলের হরণ করা সংবাদপত্র প্রকাশের স্বাধীনতা তিনি ফিরিয়ে দেন ৷ পঞ্চমত মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলো পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর জিয়া সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেন ৷ নানাধরনের সাহায্যসহযোগিতাসহ শ্রমিক নেয়া শুরু করে যা এতোদিন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো করেনি ৷ আজকের শ্রমবাজার তাঁর আমলেই উন্মুক্ত হয় ৷ ষষ্ঠত আজকের গার্মেন্টস শিল্প তাঁর আমলেই শুরু হয় ৷ যার অবদান প্রায় সকল নাগরিক অবগত আছেন ৷ সপ্তমত আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায় ৷ তাঁকে মুসলিমবিশ্বের মর্যাদাসম্পন্ন ফোরাম আলকুদস কমিটির সদস্য করা হয় ৷ এটা সবারই জানা কথা যে ইরান-ইরাক যুদ্ধ থামাতে তিনি অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করেন ৷ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিশ্বের অনেকদেশেই রাস্তার নামকরণ ও স্মৃতিফলক উন্মোচিত হয় ৷ তার মধ্যে তুরস্কের জিয়াউর রহমান কাসিদা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷ এত স্বল্প পরিসরে তাঁর জীবনের মূল্যায়ন সম্ভব নয় ৷ এটা সামান্য আলোকপাত মাত্র।
সর্বোপরি তাঁর সল্প সময়ের শাসন আমলে তিনি বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান ৷ যা বিশ্বে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ৷ আজকের এই দিনে তাঁর পবিত্র আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ৷ আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসে দাখিল করুন ৷ আমিন ৷

লেখকঃ

 আখতারুল আলম,

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,

জেলা বিএনপি, কক্সবাজার ৷

লেখক,গবেষক, সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষক, কক্সবাজার ৷