রাঙ্গুনিয়ার ছেলেটি যেভাবে হয়ে উঠলেন দেশসেরা আলেম

সিবিকেঃ

পুরো দেশেই এ সময়ে সবচেয়ে আলোচিত আলেম ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বিশিষ্ট এই ইসলামী চিন্তাবিদ উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন ধরে। বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এবং বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।

শাহ আহমদ শফী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে এক আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সরফভাটা মাদ্রাসায় প্রাথমিক কিতাবে শিক্ষা নেন তিনি। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরি মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে ৫-৬ মাস অধ্যয়ন করেন।

১৩৭১ হিজরিতে ভর্তি হন হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে। এই মাদ্রাসায় এসে তিনি একাধারে ১০ বছর কৃতিত্বের সাথে উর্দু, ফার্সি, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ ইলমে নাহু, ইলমে সরফ, ইলমে ফিকাহ, মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), ফালসাফা (দর্শনবিদ্যা), বালাগাত (অলঙ্কারবিদ্যা) প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। ওই সময়ে তিনি পিতা-মাতা দুজনকেই হারান। পরে তিনি শায়খুল আরব ওয়াল আজম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। অল্প সময়েই তিনি ‘খেলাফতপ্রাপ্ত’ হন।

শাহ আহমদ শফী হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে মিশকাত শরিফ, জালালাইন শরিফ ইত্যাদি কিতাব পড়া শেষ করার পর ইলমে হাদিস ও ইলমে তাফসিরের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছে নিয়ে ১৩৭১ হিজরি সালে ছুটে যান ইসলামি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র দ্বীনি বিদ্যানিকেতন ভারতের উত্তর প্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দে। দারুল উলুম দেওবন্দে হজরত ফুনুনাতে আলিয়া, দাওরায়ে হাদিস ও দাওরায়ে তাফসিরের কোর্স অধ্যয়ন করেন তিনি।

দেওবন্দে অধ্যয়নকালে তিনি যাদের সংস্পর্শে আসেন, তাদের শুরুতেই রয়েছেন শায়খুল আরব ওয়াল আযম আল্লামা হুসাইন আহদ মাদানীর নাম। দেওবন্দে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই এই মনীষীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে ‘খেলাফতপ্রাপ্ত’ হন শাহ আহমদ শফী।

 

ভারতের দেওবন্দে আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী একাধারে চার বছর অধ্যয়ন ও বিখ্যাত ধর্মগুরুদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে হাদিস, তাফসির ও ফিকাহশাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি আল্লামা মাদানীর প্রতিনিধি হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন।

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে বাংলাদেশে আসার পর তিনি জামিয়ার তৎকালীন মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্ আবদুল ওয়াহ্হাবের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৮৬ সালে তদানীন্তন জামিয়ার মহাপরিচালক হাফেজ কারী আল্লামা হামেদ মারা যাওয়ার পর জামিয়ার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি মজলিসে শুরার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামিয়া পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয় শাহ্ আহমদ শফীর ওপর।

তিনি দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষতায় যোগ দেন। এরপর থেকে মৃত্যুর কিছু সময় আগ পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর ধরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। দেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে সারা দেশে তার রয়েছে অসংখ্য ছাত্র, মুরিদ, ভক্ত ও খলিফা। কওমি ধারার ৪০ হাজার মাদ্রাসার প্রায় প্রতিটির শিক্ষক ও পরিচালকের পদে রয়েছে তার অগণিত ছাত্র।

২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় আল্লামা শফীর হাত ধরেই। তিনি আমৃত্যু এই সংগঠনের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।