প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ১২ মিটার উচ্চতায় কালুরঘাট সেতু

সিভয়েস ডেস্কঃ

অবশেষে কর্ণফুলী নদীতে নতুন কালুরঘাট সড়ক কাম সেতু নির্মাণে জটিলতা কেটে গেছে। সেতু উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও রেলওয়ের দ্বন্দ্ব নিরসন হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে। ১২ দশমিক ২ মিটার না হলেও শূণ্য দশমিক ২ মিটার কমিয়ে ১২ মিটারই সেতু নির্মাণের অনমুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

রোববার ঢাকার সেতু ভবনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিআইডব্লিউটিএ ১২ দশমিক ২ মিটারে অনড় থাকলেও রেলওয়ে চেয়েছিল প্রথমে ৭ দশমিক ২ মিটার পরে ৯ মিটার পর্যন্ত করতে৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর করা আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর অনাপত্তি ছাড়া সেতু করাই যাবে না। ফলে সিদ্ধান্তের জন্য উভয়পক্ষই রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। ওই বৈঠকে আইনগত দিক ও টেকনিক্যাল সব দিক বিবেচনায় নিয়ে শূণ্য দশমিক ২ মিটার কমিয়ে ১২ মিটার (৩৯ দশমিক ৩৭ ফুট) উচ্চতায় সেতু নির্মাণে অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিষয়টি সিভয়েসকে জানিয়ে চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেতুর উচ্চতা নিয়ে সব জটিলতা কেটে গেছে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে। রেলওয়ে ও বিআইডব্লিউটিএর যৌথ বৈঠকে দ্বিমত থাকার পর দুপক্ষই রোববার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে সিদ্ধান্ত চায়। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব শুনে ১২ মিটারেই কালুরঘাট সড়ক কাম সেতু নির্মাণে অনুমতি দিয়েছেন। ফলে আর কোনও বাধা থাকলো না।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সরাসরি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন। তবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি দেখছেন।’

পরে রেলওয়ে পরিচালক গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিভয়েসকে জানান, গতকালের বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এক্ষেত্রে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সরকারি গেজেট সংশোধনই সেতু নির্মাণে আলোর মুখ দেখতে পারে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন কিনা তা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি৷

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কোন চিঠি পাইনি।’

অন্যদিকে নকশা অনুযায়ী এ সেতুর উচ্চতা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ মিটার।  অবশ্য এই উচ্চতা  ৯ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো যাবে বলে জানিয়েছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএ’র প্রস্তাবিত ১২ দশমিক ২ মিটার সেতুর উচ্চতা করতে গেলে বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী এ সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। সেই সাথে নতুন সেতু নির্মাণের ব্যয় বেড়ে যাবে প্রায় ৪ গুণ বেশি। সবমিলিয়ে নতুন সেতুর ব্যয় দাঁড়াতে পারে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা। এখন প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনার পর নতুন করে দাতা সংস্থার সাথে বৈঠক, নতুন নকশা প্রণয়ন ও ভূমি অধিগ্রহণের সব সিদ্ধান্তই নতুন করে করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএর উপ পরিচালক (পিআরও) মোবারক হোসেন মজুমদার সিভয়েসকে বলেন, ‘সেতু ভবনে রেলওয়ে ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধিগণ বৈঠক করেছেন। সেখানে নিজ নিজ পক্ষে কাগজে কলমে তারা বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু অফিসিয়ালি বলার মত কিছুই নেই। কাগজ আসলে বলা হবে।’

নকশা অনুযায়ী বর্তমান সেতুটির ৮০ মিটার উত্তরে তৈরি হতে যাচ্ছে নতুন সেতুটি। নতুন সেতুর প্রস্থ হবে ২০ ফুট, আর লম্বা ৭৮০ মিটার। ৯টি থাম বা স্প্যান দিয়ে এ সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতুটিতে নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়ােজনীয় উচ্চতা ও স্পেস রাখা হবে। ফলে সেতুর নিচে জাহাজ চলাচলে সুবিধা হবে। সেতুটি নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা যাবে। তাছাড়া সেতুর ডাবল লাইন সড়কে যানবাহন তো চলবেই। এ সেতু দিয়ে ১২০ কিলো স্প্রিডে ট্রেন আর ৬০ কিলো স্প্রিডে গাড়ি চলতে পারবে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব নদীকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্তকরণ করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এ কাজটি তদারকি করে থাকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। দেশের প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বেশ কয়েকটি নদী প্রথম শ্রেণিভূক্ত। তেমনি বঙ্গোপসাগর থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর অংশকে প্রথম শ্রেণিভূক্ত করা হয়েছে। শাহ আমানত সেতু থেকে হালদা নদীর মোহনা পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণিভূক্ত করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যান করার পরই আইনটি করেন।

প্রথম শ্রেণির নদীতে সেতু করতে হলে উচ্চতা হতে হবে ১৮ দশমিক ৩ মিটার, দ্বিতীয় শ্রেণির নদীতে সেতু হলে উচ্চতা হতে হবে ১২ দশমিক ২ মিটার আর তৃতীয় শ্রেণির নদীতে সেতু হলে উচ্চতা হতে হবে ৭ দশমিক ২ মিটার। বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্ণফুলী নদীতে রেলওয়ে সেতু করতে চাচ্ছে তৃতীয় শ্রেণির হিসাবে ৭ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায়। এরকম হলে সরকারি গেজেট লঙঘন হবে আর নদী মরে যাবে, এমন দাবি নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের।

বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত শাহ আমানত সেতুটির উচ্চতা ১২ দশমিক ২ মিটার। যেটি নদীর দ্বিতীয় শ্রেণি অংশে পড়েছে।