ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে যত মামলা, তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আদালত

মেজর সিনহা হত্যা ঘটনার পর থেকে টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে দায়ের করা সবকটি মামলা দ্বিতীয়বারের জন্য সিআইডি ও পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, মেজর সিনহা হত্যা মামলার পর মহেশখালী ও টেকনাফের ভুক্তভোগী পরিবার হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার মধ্যে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে একটি ছাড়া সবকটি মামলা কক্সবাজার সিনিয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফে) আদালতে দায়ের করা হয়। ওই সময়ে আদালত মামলাগুলো আমলে নিয়ে টেকনাফ এসব ঘটনায় আর কোন মামলা রয়েছে কিনা সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশে পক্ষ থেকে সবকটি মামলার বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হয়। পরে আদালত মামলাগুলোর বিষয়ে পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থাকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাগুলো তদন্তাধীন। এছাড়াও আরও কিছু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে এখনও পৌছেনি বলে জানিয়েছেন বাদি পক্ষের আইনজীবীরা।

টেকনাফের সাদ্দাম হোসেনকে ‘ক্রসফায়ার’ এর নামে হত্যার অভিযোগে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদির পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মক্কেলের দায়ের করা মামলাসহ যেসব ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা আদালত আমলে নিয়ে এসব ঘটনায় টেকনাফ থানায় পুলিশের পক্ষে কোনও মামলা হয়েছে কিনা এবং মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্তসহ নানা বিষয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিচারক নির্দেশনা দেন। ইতোমধ্যে পুলিশ আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এ কারণে আদালত মামলার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে দ্বিতীয়বারের মত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব মামলা শুনানির জন্য আগামীতে দিন ধার্য্য করা হয়েছে। আমরা সেই শুনানির জন্য অপেক্ষা করছি’।

একই কথা জানান টেকনাফে জলিল হত্যা মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট নুরুল হোছাইন নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘জলিল হত্যা মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর আদালত মামলাটির শুনানি করেছেন। কিন্তু শুনানির পর ওই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা হত্যা মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা জানতে পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিচারক। এখনও পর্যন্ত ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি তদন্তকারি সংস্থা। এছাড়াও একইভাবে আমার আরও একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আদালতে জমা দেননি পুলিশ।’

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলার আইনজীবী এডভোকেট দিদারুল মোস্তফা বলেন, ‘মামলাগুলোর সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আমরা সুষ্ঠু বিচার পাব। এখন তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার কোর্ট পরিদর্শক চন্দন কুমার চক্রবর্ত্তী এ ধরণের তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে, মেজর সিনহা মো. রাশেদ নিহতের ঘটনায় গত ৫ আগস্ট নিহত মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদি হয়ে সাবেক পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে সাড়ে ৪ মাসের মাথায় তদন্তকারি সংস্থা র্যা ব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। ওই মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে টেকনাফ শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সহযোগী সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। এর মধ্যে সিফাতের মামলাটি আদালত খারিজ করে দিলেও শিপ্রা দেবনাথের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর শুনানি পিছিয়েছে আদালত। ওই ঘটনায় টেকনাফের সাবেক পুরিদর্শক লিয়াকত এবং ওসি প্রদীপসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষি কারাগারে রয়েছে। বর্তমানে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ দুদকের একটি মামলা চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছে। অন্য আসামিরা কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে।

-সিটিজিপ্রতিদিন