রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে মোবাইল চুরির অভিযোগে যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ

সোয়েব সাঈদ, রামু
রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার কবির আহমদ (১৮) দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের করইল্যাছড়ি এলাকার জাফর আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
আহত যুবকের বড় ভাই আলী আহমদ জানিয়েছেন- সোমবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে কবির আহমদ বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাজারকুল ইউনিয়নের পাহাড়তলী এলাকা থেকে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বলিপাড়া এলাকার মো. হোছনের ছেলে হাফেজ, লালা মিয়ার ছেলে ফিরোজ, পূর্ব পানেরছড়া এলাকার হাবিবের ছেলে ইসমাইল, নুর আহমদের ছেলে ইলিয়াছ, মোশাররফ আলীর ছেলে মনিরের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন যুবক তার ভাই কবির আহমদকে অপহরণ করে একটি টমটম গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
পরে জানতে পারেন-পানেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশর্^বর্তী নির্জন এলাকায় তাকে নিয়ে গিয়ে মোবাইল চুরির মিথ্যা অজুহাতে তাকে হাতুড়ি, লোহার রড় দিয়ে এবং শারীরিকভাবে মারধর শুরু করে। প্রায় দেড় ঘন্টা নির্মম মারধরের ফলে গুরতর ও বক্তাক্ত জখম পান কবির আহমদ।
ওইদিন (সোমবার) রাত ৯টার দিকে মারধরের ফলে মূমূর্ষু কবির আহমদকে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোজাহের আহমদের কাছে নিয়ে যান হামলাকারিরা। এসময় ওই জনপ্রতিনিধি আহত ফরিদকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। রাতে অবস্থা আশংকাজন হলে স্বজনরা তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আহত কবির আহমদের পরিবারের সদস্যরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোজাহের আহমদ নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন-মারধর করা এক ব্যক্তি সোমবার এশার পরে তাকে ফোন করে এবং পরে আহত যুবককে তার কাছে নিয়ে যান। এসময় আহত যুবকের মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। তিনি তাৎক্ষণিক তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পল্লী চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর হাঁড় ভাঙার আশংকা করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া এমন বেআইনী কাজ করায় তিনি হামলাকারিদের বকাঝকাও করেন।
দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ ভূট্টো জানিয়েছেন-মারধরের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি ইউপি সদস্য মোজাহের আহমদের সাথে কথা বলেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে-নির্যাতনের শিকার কবিরের বিরুদ্ধে অতীতে কোন প্রকার চুরি বা কোন প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপের কোন অভিযোগ নেই। এরপরও সন্দেহজনকভাবে এভাবে একজন নিরীহ যুবককে মারধর করা অন্যায়। সে চুরি করলে আইনের আশ্রয় নেয়া যেত, যা এক্ষত্রে করা হয়নি। এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলাকারিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।