হেফাজতের তান্ডব, মহেশখালীতে ৩ মামলায় ৯ শত আসামি

মাহবুব রোকন:  

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ এপ্রিল গভীর রাতে কালারমার ছড়ায় নৈরাজ্য সৃষ্টি, পুলিশের উপর হামলা, বড় মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর, আগুন দেওয়া, ইউএনও কার্যালয় ও মহেশখালী থানা আক্রমণসহ বিভিন্ন স্থানে তান্ডব চালালোর ঘটনায় মহেশখালী থানায় আলাদা তিনটি মামলা হয়েছে।
এখানে পুলিশ বাদি হয়ে করেছে দুইটি মামলা এবং অপর মামলাটি করেছে আওয়ামী লীগ। এ সব ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন দুইজন।
সূত্র জানায় -হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ৩ এপ্রিল গভীর রাতে হেফাজতের ব্যানারে হঠাৎ দফায় দফায় লাঠি মিছিল হয়, মিছিল থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর করা হয়। চেষ্টা করা হয়েছে কালারমার ছড়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে আক্রমণের, বড় মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা এলাকায় হামলা হয়।
কালারমার ছড়ায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে, পুলিশকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা হয় কালামার ছড়ায়, এসব ঘটনায় আহত হয়েছে একাধিক পুলিশ সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কালারমার ছড়ায় পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে। আক্রমণকারীরা যেখানেই বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখেছে -সেখানেই আক্রমণ করেছে। মূলতঃ হেফাজতের ব্যানারে এ বিক্ষোভ হলেও জামায়াত-বিএনপির লোকজন এ তান্ডব চালিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি।
পরদিন এসব ঘটনার প্রতিবাদে মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। এ সময় বড় মহেশখালীতে যুবদল নেতা মোহাম্মদ মোক্তারের একটি হোটেলে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি এ আওয়ামী লীগ অফিসে হামলাকারীরা অনেকেই এ হেটেলে বসে মিটিং করেছিল।
অপরদিকে আজ মহেশখালী উপজেলা যুবলীগ সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে এক সভা ও সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ্ব সাজেদুল করিম।
এদিকে ৩ এপ্রিলের ঘটনার পরপরই এ সব ঘটনায় বড় মহেশখালী থেকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল বড় মহেশখালী থেকে মোকাররম নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মোকাররম দু’টি মামলার প্রধান আসামি এবং তারেক রহমান জুয়েল একটি মামলার ৬ নম্বর আসামি। পুলিশের করা দুইটি মামলায় ৩৫জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০০জনকে আসামি করা হয়েছে ৷
অপরদিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাদি হয়ে করা মামলায় ৬৭জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এখানে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩০০জনকে। এদিকে মামলায় কয়েকজন নিরীহ লোকও আসামি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হাই জানান -প্রতিটি মামলার চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কোন নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানি না হয়, সেদিকেও পুলিশের বিশেষ নজর রয়েছে বলে তিনি জানান