বিভ্রান্তি ও উস্কানিমূলক পোস্টকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান

এম.এ আজিজ রাসেল:
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেছেন, পুলিশ সবসময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছে। কিন্তু মহেশখালী ও শহরের পাহাড়তলীতে হেফাজতের বিষয় নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি পুলিশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য নামে-বেনামে আইডি থেকে এমন বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি আইডি থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান আরও বলেন, অতীতে পুলিশের নানা কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে জেলা পুলিশ সব কালিমা দুরে রেখে কাজ করছে। আইনের উর্ধ্বে কেউ নেই। প্রতিনিয়ত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ফেইসবুকে নামে-বেনামে উস্কানিমূলক পোস্টধারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু করা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মহেশখালীতে হেফাজতের তান্ডবে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় কোন নিরাপরাধ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বাদ দেয়া হবে। তবে এ নিয়ে মোহাম্মদ রবি নামে একটি আইডি থেকে ফেইসবুকে মহেশখালীর ওসি মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেয়া হয়। অতিউৎসাহী এমন পোস্ট মহেশখালীর ওসির না।
অপরদিকে পাহাড়তলীতে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিকে হত্যার হুমকী ও তার বাড়িতে হামলা করেছে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। এ বিষয়ে তিনি জানান, হেফাজতের নাশকতাকারী, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন এই হামলা ও হুমকী দেয়া হয়েছে বলে মামলা করতে আসেন থানায়। ওসি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন। কিন্তু আমিনুল ইসলাম নামে জনৈক ওই ব্যক্তির পক্ষে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। এই স্ট্যাটাসে সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াসকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। তবে জনৈক ওই ব্যক্তি এই স্ট্যাটাস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। আমরা ওই আমিনুল ইসলামের আইডি খতিয়ে দেখছি।
পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে নানা অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। এই সিন্ডিকেটে সাংবাদিক নামধারী কিছু ব্যক্তিও রয়েছে। যারা সাংবাদিকতা পেশাকে কলুষিত করছে। তাই তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আর পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষ থেকে স্বার্থ হাসিলের ফায়দা করলে অভিযোগ পেলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম ও সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস।