যেখানেই হেফাজত সেখানেই প্রতিরোধ করবে আওয়ামী লীগ

সিবিকে ডেস্কঃ

হেফাজত কর্মীদের নাম ঠিকানা খুঁজে বের করে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। আঘাত আসলে প্রতিঘাত করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। একই কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও।

বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এ আহ্বান করেন আওয়ামী লীগের অন্যতম এ মুখপাত্র। এর আগে সকাল ১০টার পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল সোনারগাঁও-এর উদ্দেশে যাত্রা করেন।

হানিফ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘যেখানেই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হেফাজত ইসলাম ধর্মের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করবে। সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করতে হবে। এদের খুঁজে বের করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন ধর্ম ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে। তাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, যুবলীগের নেতার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, ছাত্রলীগের নেতার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। এই বিষয় পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিতে চাই— ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল তার স্ত্রীর নাম দিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন বলেই সাধারণ মানুষ তাকে ধরেছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা যে ভাঙচুর ও নির্যাতন করেছে। এটার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের নাম ঠিকানার সংগ্রহ করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করেছে,  আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করেছে, মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে। এসব হামলার সঙ্গে যুক্তদের পরিচয় সংগ্রহ করুন। বাড়ি ঠিকানা সংগ্রহ করুন। কে কোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সেগুলো সংগ্রহ করুন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। কিন্তু ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করা, ভাঙচুর করা বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যককেই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আর যারা ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করবে, তাদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করব। ধর্মের নাম করে যারাই ভাঙচুর করেছে, এদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা কৃৃৃৃৃৃৃৃরার পরামর্শ দিয়ে হানিফ বলেন, ‘হামলার শিকার হয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকে সুনির্দিষ্টভাবে মামলা করুন। আমাদের ওপর যে আঘাত করা হয়েছে, এই আঘাতের প্রতিঘাত করা হবে। সারাদেশে এই ধর্মের নাম দিয়ে বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজতে নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে— এখন থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরা সরকারের পাশে থেকে এই সকল অপশক্তিকে কঠোরভাবে দমন করবে। আশা করি আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনা কালীন এই দুর্যোগের সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে এবং মাস্ক পরিধান করে পুরো জাতিকে করোনার সুরক্ষা দিতে হবে। আর আগামী দিনে সকল অপশক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এদিকে বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। হেফাজত ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি ও শান্তি বিনষ্ট করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে তা সহনশীলতার সব মাত্রা অতিক্রম করেছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছে বা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন বলেই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিপরীতে আওয়ামী লীগ এখনও দায়িত্বশীল আচরণ করছে, দেখাচ্ছে সহনশীলতা। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কোনো ধর্মান্ধতাকে সমর্থন দেয় না। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সে আগুনে আপনাদের হাত পুড়ে যাবে। ’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে জমি-জমার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, খতিয়ান, নামজারি রেকর্ড ছাই হয়ে গেছে, ভূমির প্রয়োজনীয় দলিল নথিপত্রের অভাবে বংশপরম্পরায় মামলা-মোকদ্দমায় লড়তে হবে, সুতরাং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’