প্রতিদিন টেকনাফ বন্দরে খালাস হচ্ছে ৫’শ টনাধিক পেঁয়াজ, তারপরও কমছে না দাম

কক্সবাজার খবর ডেস্ক    : কক্সবাজার শহরে আরো এক দফা বেড়ে গেলো পেঁয়াজের দাম। ১৬ নভেম্বরও বাজারে তুরস্কের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা কেজিতে। সেখানে গতকাল শহরের খুচরো দোকানগুলোতে নিন্মমানের ১ কেজি পেঁয়াজের দাম ছিলো ২১০ টাকা। পেঁয়াজের দাম সহসাই কমবে এমন লক্ষণও দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। এদিকে, টেকনাফ বন্দর থেকে প্রতিদিন আসছে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ। আমদানিকারকরা কম দামে মায়ানমার থেকে এসব পেঁয়াজ কিনলেও বন্দরে পৌঁছার সাথে সাথে কয়েকগুণ দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে, প্রশাসনের চাপের মুখে গতকাল কিছুটা দাম কমিয়েছেন। গতকাল টেকনাফ বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

টেকনাফ বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট থেকে গতকাল ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বন্দরে বেড়ে যায় পেঁয়াজ আমদানি। এই সময়ে আমদানিকারকরা অন্য ভোজ্য পণ্যের চেয়ে পেঁয়াজ আমদানিতেই উৎসাহী হয়ে পড়েন। ভারতের পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা তৈরি হয়। এই কারণে আমদানিকারকরা মায়ানমার থেকে অন্যান্য পণ্যের পরিবর্তে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করছেন। চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেকনাফ বন্দরে আমদানিকৃত মায়ানমারের পেঁয়াজ পৌঁছেছে প্রায় ৩৭ হাজার টন। উল্লিখিত পেঁয়াজের মধ্যে শুধু গত দেড় মাসেই মায়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার টন পেঁয়াজ। গতকাল ১৭ নভেম্বর টেকনাফ বন্দরে খালাস করা হয় ১৩১ টন পেঁয়াজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করার পরও তা বাজারজাত করণে অনীহা প্রকাশ করছেন আমদানিকারকরা। যে কোন উপায়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধিই এর কারণ।

আমদানিকারকদের এই অপকৌশলের কারণে ইতঃপূর্বে টেকনাফ বন্দরে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যায়। তবে, বাজারে সংকট থাকায় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচলেও আমদানিকারকদের লোকসান গুণতে হয়নি।

কক্সবাজার শহরের বড় বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা বাদশা মিয়া সওদাগর বলেন, বন্দরে আজ (গতকাল ১৭ নভেম্বর) প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। আমরা আমদানিকারকদের কাছে বিক্রয় চালান চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা এতে অনীহা প্রকাশ করছে।

সুত্র : রাইজিং কক্স