রামুতে মিলল দেড় হাজার বছর আগের ইট

সমকাল ডেস্কঃ

কক্সবাজারের রামুতে ১৫০০ বছরের প্রাচীন একটি ইটের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরিপ ও অনুসন্ধান দল।

মঙ্গলবার রামকুট বৌদ্ধবিহার এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানকালে এর সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া সোমবার পাওয়া গেছে ১৩৫ বছর আগের একটি শিলালিপি ও একটি হাতির ফসিলও।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান জানিয়েছেন, কুমিল্লার শালবন বিহারের মতো একই নির্মাণসামগ্রী রামুর রামকুটেও ব্যবহার করা হয়েছে। রামকুট এলাকায় আরও খনন করা হলে প্রত্নপর্যটনের একটি শহর বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

 

 

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাপ্ত ইটের মতো একই ধরনের ইট কুমিল্লার শালবন বিহারেও পাওয়া গিয়েছিল।

এর আগে সোমবার বিকেলে রামু উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে ১৩৫ বছর আগের একটি শিলালিপি ও ইট এবং উত্তর ফতেখাঁরকুল বণিকপাড়া এলাকা থেকে প্রাচীন একটি হাতির হাড়ের ফসিল সংগ্রহ করা হয়েছে। আরবি ও ফারসি ভাষায় লিখিত শিলালিপিটি ১২৮৮ হিজরিতে নির্মিত আস্কর কাটা মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার করা হয়। কক্সবাজারের চার উপজেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান পরিচালনা করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

ড. মো. আতাউর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের রামকুট বৌদ্ধবিহারের দক্ষিণে মধ্যম ঘোনারপাড়া এলাকা থেকে প্রাচীন ইট পাওয়া গেছে, সেই ইট প্রায় ১৫০০ বছর আগের। সোমবার বিকেলে রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি চৌধুরীপাড়া গ্রামের ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের আরবি ও ফারসি ভাষায় লিখিত একটি শিলালিপি ও ইট পাওয়া গেছে। ওই স্থানে এখন নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রামবাসীর কাছে ‘পাক্কা মসজিদ’ বা ‘আস্কর কাটা মসজিদ’ নামে পরিচিত এ মসজিদ। ওই এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ড. মোস্তফা কামাল চৌধুরী ও ইমাম আবু মুছার কাছ থেকে সংগৃহীত শিলালিপি ও ইট ১২৮৮ হিজরিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে তিনি জানান।

সংগৃহীত এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রামু, উখিয়া, মহেশখালী ও কপবাজার সদর উপজেলায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাসব্যাপী প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ১৬ নভেম্বর রামু উপজেলার কাউয়ারখোপে ঐতিহাসিক কানা রাজার সুড়ঙ্গ বা আঁধার মানিক গুহা চত্বরে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. জাকির হোসেন।

 

 

এরই মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান দল রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসের চর গ্রামে ঐতিহাসিক লামারপাড়া বৌদ্ধবিহার, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি ভুবন শান্তি ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি ও বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনায় পাহাড় চূড়ায় স্থাপিত জাদিসহ বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও নিদর্শন পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান টিমের ফিল্ড অফিসার মো. শাহীন আলম, সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, গবেষণা সহকারী মো. ওমর ফারুক, সার্ভেয়ার চাইথোয়াই মারমা, পটারি রেকর্ডার ওমর ফারুক ও লক্ষ্মণ দাস উপস্থিত ছিলেন।