কক্সবাজার জেলাজুড়ে বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া গতির ১৮৯৫টি অবৈধ ডাম্পার

শাহী কামরানঃ

কক্সবাজার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে সড়কে অবাধে চলছে কাগজপত্রবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন ডাম্পার। বিআরটিএ এর তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় ডাম্পারের সংখ্যা ২ হাজার। তার মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন নেই ১ হাজার ৮ শত ৯৫টির। রেজিষ্ট্রেশন আছে মাত্র ১ শত ৫টির। তার মধ্যে নবায়ন করা হয়নি ৮০টির। বৈধ ডাম্পার আছে মাত্র ২৫টি। এসব যানবাহন আটক ও কাগজপত্র পরীক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। ফিটনেসবিহীন এসব ডাম্পার চলাচলের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিবছর গড় হিসাব করলে প্রধান সড়কে সব থেকে বেশী দূর্ঘটনার রেকর্ড পিকআপ ডাম্পারের।মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কর ঝক্কর মার্কা ডাম্পার চলাচলের কারণে পরিবেশ দূষণ ও সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া মহাসড়কে ধূলাবালি বৃদ্ধির অন্যতম কারণও এই ডাম্পার। কক্সবাজার জেলায় ইট বালি সরবরাহ ও সংরক্ষনের একমাত্র যান এই ডাম্পার। সারাদিন অবাধে ইট-বালি নিযে চলাচল করা এসব ডাম্পারকে কখনো কোন চেক পোস্টে থামানো হয়না।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিটনেসবিহীন ডাম্পারগুলো অধিকাংশ বিভিন্ন স্থান হতে পার্টস কিনে এনে গ্যারেজ থেকে বডি বানানো হয়। যার ফলে রেজিষ্ট্রেশন তো দুরের কথা এসব যানের অধিকাংশেরই নেই কোন ফিটনেস এবং বৈধতা। চালকরাও অল্পবয়স্ক কিশোর যুবক। যাদের সিংহভাগেরই নেই কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। কিশোর যুবক ড্রাইভার হওয়াই সড়কে দূর্ঘটনা কমানোর কোন সুযোগ নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল। মহাসড়কে নাম্বার ও ফিটনেসবিহীন ডাম্পার চলাচল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এসব যান মহাসড়কে সর্বদাই যাতায়াত করছে। এসব ডাম্পার মহাসড়কে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কার আগে কে যাবে, প্রতিযোগীতা করে। ট্রাফিক সিগনাল না মেনে যেখানে সেখানে থামে, যেখানে সেখানে মালামাল উঠানামা করে ও ওভারটেক করার প্রতিযোগীতা করে।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক ডাম্পার মালিক ও ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সিজনের জন্য ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় প্রশাসনকে। বিনিময়ে মিলে একটা হাতের লিখা টোকেন। যে টোকেন দেখালে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কেউ তাদের আটকায় না। ধরলেও টোকেন দেখালে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ সহকারী পরিচালক উথোয়াইনো চৌধুরী জানান, আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন সময় জরিমানা করি। এই মাস থেকে নতুন আইনে অভিযান পরিচালনা শুরু করব। আশা করি সবাইকে এই আইনের বিষয়ে সচেতন করলে অবৈধ ডাম্পারগুলো দ্রুত নবায়ন ও রেজিষ্ট্রেশন করতে বাধ্য হবে।

 

অবৈধ ডাম্পার চলাচল ও টোকেনের ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশ সুপার বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় মামলা দিয়ে থাকি জরিমানা দিয়ে আবার নিয়ে যায়। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন আইনে অভিযান পরিচালনা করব। ডাম্পারের বিষয়টা খতিয়ে দেখব। টোকেনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা কোথাও টোকেন দিই না। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি ট্রাফিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা আদায় করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।