৫৯ হাজার টাকা ছাড়াল সোনার ভরি

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ আউন্স) সবচেয়ে ভালো মানের সোনা (২২ ক্যারেট)  ৫৯ হাজার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হবে।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকায়। আর ১৮ ক্যারেট বিক্রি হবে ৫১ হাজার ৮৪৬ টাকা দরে।

তবে সনাতন পদ্ধতির সোনার দামে কোনো হেরফের হয়নি; আগের ২৯ হাজার ১৬০ টাকা দরেই বিক্রি হবে।

এবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে নয়, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে সোনার দাম বাড়ার কারণে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামূল হক খান দোলন এবং সাধারণ সম্পাদ দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

বুধবার পর্যন্ত থেকে প্রতি ভরি  সবচেয়ে ভালো মানের সোনা ৫৮ হাজার ২৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬৯৬ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দর ছিল ৫০ হাজার ৬৮০ টাকা।

সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর সব ধরনের সোনার দর ভরিতে একই পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। তার আগে টানা কয়েকবার বাড়ানোর পর ১০ সেপ্টেম্বর সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা করে কমিয়েছিল বাজুস।

বুধবার সন্ধ্যায় দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাংখ্যা করতে গিয়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা  বলেন, “আমরা বুলিয়ন (বার) মার্কেটের উপর জিম্মি হয়ে পড়েছি। তাদের কাছ থেকে এখন বেশি দামে বার কিনে অলংকার তৈরি করতে হচ্ছে। সে কারণে বাধ্য হয়েই আমাদের দাম বাড়াতে হচ্ছে।”

 

 

“সরকার ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে গোল্ড আমদানির লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু এখানে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। এই জটিলতা দূর করা না হলে এক ছটাক স্বর্ণও আমদানি করবে না এই ১৮ প্রতিষ্ঠান।”

কি সেই জটিলতা- এ প্রশ্নের উত্তরে আগরওয়ালা বলেন, “স্বর্ণ আমদানির নীতিমালায় যে কোনো নাগরিককে বিদেশ থেকে আসার সময় সঙ্গে করে দুটি বার নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতি বারের জন্য ২০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।”

“অন্যদিকে আমরা যারা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে টাকা খরচ করে লাইসেন্স পেয়েছি তারা আমদানি করলে প্রতি বারের জন্য শুল্ক দিতে হবে ২৮ হাজার টাকা। এই বৈষম্যের কারণে আমাদের কেউ গোল্ডের বার আমদানি করবে না।”

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাজুসের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান আগারওয়ালা।

বাজুস সভাপতি এনামূল হক খান দোলন  বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গোল্ডের দাম এখন স্থিতিশীল রয়েছে। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ার কারণেই এবার স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

আন্ত:ব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর খুব একটা বাড়েনি। তাহলে ডলারের দাম বাড়ার অজুহাতে কেনো সোনার দাম বাড়ানো হলো- এ প্রশ্নের উত্তরে বাজুসের সভাপতি দোলন বলেন, আন্ত:ব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম খুব একটা না বাড়লেও ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। কার্ব মার্কেটে ডলার প্রায় ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

“ব্যাগেজ রুলসের অধীনে সে গোল্ড দেশে আসে সেটা কিনতে কিন্তু এই ৮৮ টাকা দিয়ে ডলার কিনতে হয়।”

আমরা যদি দাম না বাড়াতাম তাহলে আমাদের এখান থেকে গোল্ড ভারতে পাচার হয়ে যেতো। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।”

এদিকে দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯ ডিসেম্বর  বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশের বাজারে সোনার দর বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আন্ত:ব্যাংক লেনদনে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৮৭ টাকায়। আর মার্কেটে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সায়।

বিয়ের মৌসুমকে সামনে রেখে সোনার দর বাড়ানো হয়েছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, “ব্যবসা খুবই খারাপ। কেনাবেচা নেই। অনেক দোকানে সারা দিনে বিক্রিই হয় না। বিয়ের মৌসুম হলে তো চাহিদা থাকত; কিন্তু সেটা নেই।”

রোববার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে।

সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরনো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে তার কোনো মানদণ্ড নেই।

অলংকার তৈরিতে সোনার দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ করে দাম ঠিক করা হয়।

তবে রুপার দর অপরিবর্তিত রেয়েছে। আগের  ৯৩৩ টাকা ভরিতেই বিক্রি হবে এটি।