মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী:
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের ৫ দিন পর অক্ষত অবস্থায় অপহৃত এক শিশুকে উদ্ধার করেছে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জুন) সকালে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম।
উদ্ধার শিশু খায়রুল আমিন টেকনাফের হ্নীলার নাইক্ষ্যংখালী মৌলভী বাজারের বাসিন্দা মো. ইউনুসের ছেলে। খায়রুল মৌলভীবাজার ইসলামিক আজিয়া ফয়জুল উলুম হিফজ খানার শিক্ষার্থী।
আটকরা হলেন- মো. আলম, আহম্মদ হোসেন, মো. পারভেজ ও আজিজা খাতুন। তাদের সবাই টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়নের মরিচ্যাঘোনা বড়বিল এলাকার বাসিন্দা।
টেকনাফ মডেল থানার থানার ওসি বলেন, গত শুক্রবার (১৭ জুন) খায়রুল আমিন তার বন্ধু ফরহাদের সঙ্গে দেখা করতে হ্নীলা বাজার থেকে জনৈক আলমের ইজিবাইকে উঠে। কিন্তু ইজিবাইক চালক আলম কৌশলে তার অপর সহযোগীর গাড়িতে তুলে দেয় খায়রুলকে। এরপর তাকে ইজিবাইকযোগে রঙ্গিখালী পাহাড়ের ঢালায় নিয়ে যায়। সেখানে হাত বেঁধে পাহাড়ের উপর তুলে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে অপহরণকারীরা। তারপর ১৭ জুন রাতে অপহরণকারীরা খায়রুলের মায়ের মোবাইলে ফোন করে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং নির্যাতনের শব্দ শোনান।
বিষয়টি পুলিশকে জানায় খায়রুলের স্বজনরা। এরপর অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ দফায় দফায় পাহাড়ে অভিযান শুরু করে। কিন্তু অপহরণকারীরা বার বার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
কিন্তু মঙ্গলবার (২০ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে ইজিবাইক চালক আলমকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে, বুধবার সকালে রঙ্গিখালী পাহাড়ে অভিযান শুরু করলে পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে অপহৃত খায়রুল আমিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অন্য অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম।