রামুতে অকার্যকর হয়ে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধা ভবন, কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থের অপচয় 

 

হাসান তারেক মুকিম:

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই কোন পদচারনা।  ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুবিশাল ভবনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। অযত্নে অবহেলায় দিন দিন ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত যাতায়াত না থাকায় ভবনটি এখন ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে নির্মাণ ব্যয়ের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি)  তত্ত্বাববধানে ৩ কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে রামু বাইপাস ফুটবল চত্বরের পশ্চিম পাশে তিন তলা বিশিষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের প্রাথমিক খরচ যোগান দিতে ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকান করা হয়েছে সেগুলোও এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৩ তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, বিশাল আকৃতির একটি কনফারেন্স রুম। অফিস কক্ষে রয়েছে উন্নত আসবাবপত্রসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।

জানা যায়, ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে ২৮ মে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়।  কিন্তু ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত নেই বললে চলে।  সারা বছর ভবন গুলো তালাবদ্ধ থাকে। মাসের পর মাস অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ময়লা আবর্জনায় ডুবে থাকে। তাই অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ভবনসহ আসবাবপত্র মূল্যবান সম্পদ। একইসাথে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।

এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের করের টাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও ব্যবহার না হওয়ায় রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, নিজেদের মাঝে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ভবনটি চৌমুহনী স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সেখানে যেতে অনিহা প্রকাশ করেন। এ কারণে ভবনটি মাসের পর মাস তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের কল্যাণে নির্মিত হলেও ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় তারা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোকানগুলো ইজারা দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোকানগুলো ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ভবনটি ব্যবহারযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থও সংরক্ষিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •