হাসান তারেক মুকিম,রামু
কক্সবাজারের রামুতে ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রামু উপজেলা চৌমুহনী চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রামু থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. কামাল হোসেন ঘুষের টাকা না পাওয়ায় প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই ভুয়া চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এর ফলে নিরপরাধ জিটু বড়ুয়াকে কারাবরণ করতে হচ্ছে এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।
ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়ার পিতা শিবু বড়ুয়া অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি মামলায় প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে এসআই কামাল আমার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তড়িঘড়ি করে আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি খোকন বড়ুয়াকে আটক না করে এসআই কামাল তার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে নিরপরাধ আমার ছেলেকে এখন কারাভোগ করতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব হলো মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে আইনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁসাচ্ছে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বক্তারা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
জানা যায়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার হাজারীকুল এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী একই এলাকার জিটু বড়ুয়া ও তার পিতা শিবু বড়ুয়ার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তারা গুরুতর জখম হন। এ ঘটনায় জিটু বড়ুয়া বাদী হয়ে খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনকে আসামি করে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামি জামিন পেলেও প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়া এখনও পলাতক।
এরই মধ্যে প্রতিশোধ নিতে খোকন বড়ুয়া ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু ও তার বাবার বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলারই তদন্তভার পান এসআই মো. কামাল হোসেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, মূল বিরোধের কারণ ছিল পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিবাদ; চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
অভিযুক্ত এসআই মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি খোকন বড়ুয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘটনাটি জেনেছি, তবে তিনি যে পরোয়ানাভুক্ত আসামি তা আগে জানতাম না। তিনি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দুটি মামলার প্রতিবেদনই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
