নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ জেলা কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উখিয়ার ইনানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে রবিবার বিকাল ৩টায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি ও অগ্নিনির্বাপন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজন করে সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা স্কাস এবং এডুকো বাংলাদেশ। কারিগরি সহায়তা প্রদান করে সিপিপি ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, কক্সবাজার।
মহড়ায় প্রায় ১,২০০ স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও যুবসমাজ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় জরুরি স্থানান্তর কৌশল, আগুন নেভানোর পদ্ধতি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও সংকটকালীন যোগাযোগ বিষয়ে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের অগ্রাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতের নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মিজানুর রহমান আখন্দ বলেন, “সংকট মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত মহড়া তাই অত্যন্ত জরুরি।” এডুকো বাংলাদেশের ডিআরআর কোঅর্ডিনেটর মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “দুর্যোগ থামানো না গেলেও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।”
প্রধান অতিথি সিপিপির উপপরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনগণই প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যুহ।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এটিএম কাউসার আহমেদ, ফায়ার সার্ভিসের এসএসও দোলন আচার্য্য এবং উপজেলা ডিআরআর ফোকাল আল মুবিন। অতিথিরা ঝুঁকির সময়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ, নিরাপদ আশ্রয় নির্বাচন ও সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
মহড়ায় লাইভ আগুন নেভানোর প্রদর্শনী, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক আশ্রয় পরিকল্পনা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তার বাস্তব অনুশীলন অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা বাড়ায়। স্থানীয়দের মধ্যে মহড়াটি উৎসাহ ও আগ্রহ সৃষ্টি করে।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. জাকের হোসেন বলেন, “নিয়মিত মহড়া সমাজকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে। বিপদের সময় নেতৃত্ব ও দলগত সমন্বয় দক্ষতা বাড়ায়।” স্থানীয়রা এমন উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়ে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক আয়োজনের দাবি জানান।
